আমার ECA অভিজ্ঞতাঃ IQAS

শুরুতেই বলে নেই, আমি যা যা করেছি, আপনাদের তা তা করতে হবে এমন কথা নেই। IQAS এর সাইটে সকল তথ্য দেয়া আছে, ঠিকমত ফলো করলেই হবে। আমি যেটা শেয়ার করছি, তা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা – আমি যা যা করেছি আর কি।

প্রথমেই বলে নেই, আমার গ্রাজুয়েশন কোন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়, বরং একটি ছোটোখাটো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে – ইবাইস ইউনিভার্সিটি। তাই শুরু থেকেই কনফিউশনে ছিলাম যে কোথা থেকে ECA করাবো। WES আমাকে non-recognised দিবে আমি নিশ্চিত। আর ICES এর সাইটে বাংলাদেশের ৩০+ ভার্সিটির নাম দেয়া আছে যে এগুলোর ECA তারা করাবে না। এর মধ্যে আমার ভার্সিটির নাম আছে। জীবনে প্রথম বারের মত চুয়েট ছেড়ে আসার জন্য আক্ষেপ হল।

অনেক ঘাটাঘাটি করে বেছে নিলাম ৩টা প্রতিষ্ঠান – ICAS, IQAS, CES. তিনটা কেই ইমেইল দিলাম আমার অবস্থা বর্ণনা করে। তিনটাই আমাকে একই রিপ্লাই দিল – ফাইল না দেখে বলতে পারবে না – কি আজব! IQAS বাড়তি হিসেবে যোগ করল, প্রার্থী যখন পাস করেছে, তখন যদি ঐ ভার্সিটি UGC অনুমোদিত থাকে, তবে তারা সাধারণত ECA করে। আর ICAS লিখল যে, ওরা আগে IBAIS এর সার্টিফিকেট ECA করেছে।

যেহেতু ICAS আগে করেছে, তাই ওদেরকেই বেছে নিলাম। এপ্লাই করে ফেললাম। ওরা সময় নিবে প্রায় ৬ মাস! তারপর দেখলাম IQAS সময় নেয় ৩০ দিন মাত্র। মাথা ঘুরছে – ৬ মাস কি বসে থাকব, আবার ECA পাবার আগে IELTS নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই না। ঠিক করে ফেললাম IQAS এও এপ্লাই করে দেই। এপ্লাই করার আর একটা কারণ হল, আমার ভার্সিটির মালিকানা নিয়ে গণ্ডগোল চলছে – তিন জন মালিক, তিনটা ক্যাম্পাস – তিনটা ওয়েবসাইট! মামলার কারণে ভার্সিটির একাডেমিক কার্যক্রম তখন বন্ধ। ৬ মাস পর যদি কিছুই না থাকে এই চিন্তায় IQAS এও এপ্লাই করলাম।

এবার পেপারস গুছানোর পালা। যদিও আমি শুধু ব্যাচেলর সার্টিফিকেটের জন্য ECA করাচ্ছি, তবুও আমি SSC, HSC ও Diploma সার্টিফিকেটও ফটোকপি করালাম – মার্কশীটসহ। এর পরে ভার্সিটিতে গিয়ে ২ কপি ট্রান্সক্রিপ্ট উঠানোর জন্য আবেদন করলাম। ভার্সিটি বন্ধ থাকা পরেও কিভাবে উঠালাম, সে আরেক গল্প – যেখানে ভিসি স্যারের সাথেও কয়েকবার ফোনে কথা বলতে হয়েছে! ট্রান্সক্রীপ্ট এর পাশাপাশি ২কপি টেস্টিমনিয়াল এর জন্য আবেদন করলাম, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে আমি গ্রাজুয়েশন করেছি। আর ভার্সিটির সমস্ত কাগজ যেগুলোর ফটোকপি ছিল, সেগুলোতে “Checked and Verified” সিল লাগালাম এক্সাম কন্ট্রোলারের মাধ্যমে। ২টা খাম হলঃ

ভার্সিটির খামে যা দিয়েছিঃ

  • ১। IQAS এর প্রদত্ত রিকোয়েস্ট ফর্ম যেটা ভার্সিটিতে জমা দিতে হয়, এবং এক্সাম কন্ট্রোলারের স্বাক্ষর ও সিল যুক্ত করতে হয়
  • ২। টেস্টিমনিয়াল অরিজিনাল কপি
  • ৩। একাডেমিক ট্রান্সক্রীপ্ট অরিজিনাল কপি
  • ৪। কয়েকটা সেমিস্টারে স্কলারশিপ পাই, সেই সার্টিফিকেটের “Checked and Verified” সিল এবং এক্সাম কন্ট্রোলারের স্বাক্ষর ও সিল যুক্ত ফটোকপি।

এই খামটি ভার্সিটির অফিসিয়াল খাম, যেখানে ভার্সিটির নাম, লোগো, ঠিকানা ইত্যাদি থাকে। খামটি ভাল করে আটকে সংযোগস্থল গুলোতে ভার্সিটির সিল দেয়ালাম। মাঝখানে বড় করে Confidential সিল দেয়ালাম।

আমার খামে যা দিয়েছিঃ

  • ১। IQAS প্রদত্ত এপ্লিকেশন ফর্ম
  • ২। IQAS প্রদত্ত চেকলিস্ট
  • ৩। পেমেন্টের রশিদ
  • ৪। এপ্লিকেশন একনলেজমেন্টের প্রিন্ট কপি
  • ৫। পাসপোর্টের ফটোকপি
  • ৬। একটা ব্যক্তিগত পত্র
  • ৭। টেস্টিমনিয়াল অরিজিনাল কপি
  • ৮। সার্টিফিকেটের “Checked and Verified” সিল এবং এক্সাম কন্ট্রোলারের স্বাক্ষর ও সিল যুক্ত ফটোকপি
  • ৯। একাডেমিক ট্রান্সক্রীপ্ট অরিজিনাল কপি
  • ১০। কয়েকটা সেমিস্টারে স্কলারশিপ পাই, সেই সার্টিফিকেটের “Checked and Verified” সিল এবং এক্সাম কন্ট্রোলারের স্বাক্ষর ও সিল যুক্ত ফটোকপি
  • ১১। SSC, HSC এবং Diploma সার্টিফিকেটের ফটোকপি।

ব্যক্তিগত পত্র টা হল “To whom it may concern” টাইপের। এখানে আমি আমার এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড সম্বন্ধে বলি। বুঝাই যে, আমার গ্রাজুয়েশন কিন্তু ১৬ না, ১৮ বছরের। সাথে আমাদের ভার্সিটির অনলাইন রেজাল্ট পোর্টালের লিঙ্ক, ইউজারনেইম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে দেই। কারণ, ওরা যদি সার্চ করে, আমার ভার্সিটির তিনটা লিঙ্ক পাবে। তিনটা তে রেজাল্টের তিনটা পোর্টাল। যার মধ্যে ২টাতে অবশ্যই আমার নাম নেই!

এরপরে DHL এর মাধ্যমে পরপর ২ দিনে আমার এবং ভার্সিটির খাম দুটো পাঠিয়ে দেই। এবার শুরু অপেক্ষার পালা।

DHL ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে জানতে পারি যে, ২১শে জুন আমার ফাইল, আর ২২শে জুন ভার্সিটির ফাইলে ওখানে পৌঁছেছে। কিন্তু ওরা আমার ফাইলের AOR পাঠায় ২৮শে জুন, আর ভার্সিটির ফাইলের AOR পাঠায় ৩০শে জুন। এবার ৩০ দিন গণনা শুরু করলাম।

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে টেনশন বেড়ে গেল। চিন্তা করলাম কল করি ওদেরকে। প্রথমবার কল করে জানলাম এখনো প্রসেসিং শুরু হয়নি আমার ফাইল। ২য় ও ৩য় বারও তাই। চতুর্থ বার জানলাম প্রসেসিং শুরু হয়েছে। পঞ্চম বার শুনলাম প্রসেসিং শেষ, কিন্তু ওরা রেজাল্ট বলতে পারবে না। ফাইল স্ক্যানিং এর অপেক্ষায় আছে। ষষ্ঠ বারও একই কথা শুনলাম। ৭ম বার, জানালো যে সামনের সপ্তাহে সফট কপি পাবো। অবশেষে ২৩শে আগস্ট সফট কপি পেলাম। ২৮শে আগস্ট হার্ড কপি বাসায় এলো।

আমার রিপোর্টে একটু সমস্যা হয়েছিল। আমার মিডল নেইম বাদ পড়েছে। পরে আরও ২বার কল দেই। ওরা বলে ফ্যাক্স করতে, নয়তো ইমেইল করতে। আমি ইমেইল করলাম, তার ৮ দিনের মাথায় মিডল নেইম এড করে আমাকে সফট কপি পাঠায় ওরা। এখন হার্ড কপির অপেক্ষায় আছি।

পাদটীকা ১ঃ
কেউ যদি IQAS এ কল করতে চান, অবশ্যই রাত ৯.৩১ এ করবেন, কিউতে পড়তে হবে না। কল করার সময় রাত ৯.৩০ থেকে ভোর ৪.৩০, বাংলাদেশ সময়।

কীভাবে কল করবেনঃ বাংলাদেশ থেকে অনেকভাবেই কল করা যায় – মোবাইল বা ল্যান্ডফোনের মাধ্যমে। আমি স্কাইপ ব্যবহার করেছি। মাত্র ৭ ডলার খরচ করে মাসিক সাবস্ক্রিপশন কিনবেন (সাথে সাথেই ক্যান্সেল করে দিবেন যাতে পরের মাসে আর না কাটে), এতে পাবেন কানাডা, আমেরিকা সহ ৮টি নর্থ আমেরিকান দেশে আনলিমিটেড কল করার সুযোগ।

Google Hangout থেকে কল করতে পারেন, একদম ফ্রী!!! 

আমার কয়েকবার কল করে কথা বলা হয়ে গেছে। প্রতিবারই সকল প্রশ্ন গুলো শুনে এবং খুবই সুন্দর করে গুছিয়ে উত্তর দেয়।

My IQAS ECA Timeline:

  • 1. Application and Payment: 29th May
  • 2. My file sent: 15th June
  • 3. File sent by the university: 16th June
  • 4. My file reached IQAS: 21st June
  • 5. File sent by the university reached IQAS: 22nd June
  • 6. 1st AOR from IQAS: 28th June
  • 7. 2nd AOR from IQAS: 30th June
  • 8. ECA Report received by email: 23rd August
  • 9. ECA Report hard copy reached my home: 28th August

Leave a Reply

%d bloggers like this: