post

উত্তরাখণ্ড – বরফের স্বর্গরাজ্য

ঘুরে এলাম উত্তরাখণ্ড, যাকে বলা হয় অনেকটা বরফের রাজ্য। উত্তরখণ্ড অনেক বড় একটা রাজ্য। আমাদের লক্ষ্য ছিল অলি। যদিও যেভাবে প্লান করেছিলাম, বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে ঠিক সেভাবে হয়নি।

ঢাকা – কলকাতা – দিল্লী – আগ্রা – দিল্লী – দেরাদুন – মুসৌরী – হরিদ্বার – হৃষীকেশ – উখিমঠ – চোপতা – সারি ভিলেজ – জোশীমঠ – অলি – রুদ্রপ্রয়াগ – হরিদ্বার – দিল্লী – কলকাতা – ঢাকা।

ঢাকা – কলকাতা – ঢাকাঃ Indigo ফ্লাইট, রিটার্ন সহ পড়েছে ৮৯০০/- বাংলাদেশী টাকা, কেটেছি ClearTrip থেকে, কেটেছিলাম অক্টোবরে।

কলকাতাঃ আমি এক বাসায় হোম স্টে করি, ১০০০/- প্রতি রাত, লাঞ্চ বা ডিনার ১২০-১৮০/- পড়ে

কলকাতা – দিল্লীঃ শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেস, 3A ২৪৪৫/- হাওড়া রাজধানী এবং দুরন্ত এর ভাড়া একটু বেশি।

দিল্লীঃ ক্লক রুমে ব্যাগ রেখে হালকা ঘোরাঘুরি।

দিল্লী – আগ্রাঃ আন্দামান এক্সপ্রেস, ভাড়া ১৪০/-, SL

আগ্রাঃ 
হোটেলঃ www.oyorooms.com/41466-budget-oyo-18641-hotel-rashm… ভাড়া ৮৬৫/- তাজমহলের ইস্টার্ন গেটে, রাতের ভিউ অসাধারণ। রাতের বেলা তাজমহলের গেট পর্যন্ত হেঁটে ঘুরে আসতে পারবেন। 
আগ্রা ভ্রমনঃ অটো ভাড়া ১২০০/- ফতেহপুর সহ সব ঘুরিয়ে এনেছে, ৭৬১৮৪৬২৫৭৩

আগ্রা – দিল্লীঃ পাঞ্জাব মেইল, ভাড়া ১৭০/-, SL

দিল্লীঃ
হোটেলঃ www.oyorooms.com/3211-budget-oyo-2373-hotel-d-inn-d… ভাড়া পড়েছে ৮০০/- (রিকমেন্ডেড নয় একদমই, OYO তে এই প্রথম কোন বাজে হোটেল পেলাম) 
দিল্লী ভ্রমনঃ মেট্রো ডেইলি কার্ড করে। ১৫০/- টাকা খরচ।

দিল্লী – দেরাদুনঃ নন্দা দেবী এক্সপ্রেস, ভাড়া ৫৯৫/- 3A

দেরাদুন থেকে পুরো উত্তরাখণ্ড এর জন্য ৯ দিন আমাদের সাথে গাড়ী ছিল, ৬ সিটের ইনোভা, ভাড়া ৩০৯৭৫/- বিল না নিলে ৫% কম পড়ত। ড্রাইভারঃ ৯৬৯০৮০৭৪৫০ (রাজু), অপারেটর কিশোর ট্রাভেলস – ৯৯২৭৭১২০৯০। আমরা শুধু গাড়ীটাই এদের কাছ থেকে নিয়েছিলাম। সরাসরি ড্রাইভারের সাথে যোগাযোগ করলে আরো কমে পাওয়া যেত।

Read More
post

ভূস্বর্গের পথে – লাদাখ কাশ্মীর

স্বর্গের পথে যাত্রা। স্বপ্ন হল সত্যি। প্রায় ২ বছর ধরে অনেক বার প্লান করে আবার পিছিয়ে এসে অবশেষে এই সেপ্টেম্বরে এসে সফল হলাম। 

পুরো প্লানঃ ঢাকা – কোলকাতা – দিল্লী – মানালী – জিসপা – লেহ – নুব্রা – ডিস্কিত – হুন্ডার – প্যাংগন – লেহ – কারগীল – শ্রীনগর – পেহেলগাম – জম্মু – দিল্লী – কোলকাতা – ঢাকা।

পুরো এলবামঃ
ফেসবুকঃ www.facebook.com/media/set/?set=a.10214330488837409&type=1&l=7fea88e8aa
ফ্লিকারঃ www.flickr.com/photos/162644243@N06/albums/72157703306658211

যারা লাদাখ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সতর্কতামূলক পোস্ট এটি।

১। মানালী থেকে লেহ হয়ে শ্রীনগর পর্যন্ত হাইওয়েতে কয়েকটা উঁচু পাস পরে, যেগুলোর উচ্চতা অনেক বেশি। লেহ শহরের উচ্চতাও অনেক বেশি। অক্সিজেন স্বল্পতা এবং তুলনামূলক কম বায়ুচাপের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। যাবার আগে অবশ্যই নিজের স্বাস্থ্য চেক করিয়ে নিবেন। বেশি বয়স হলে এবং হার্টের সমস্যা থাকলে এই রুটে ভ্রমণ না করাই শ্রেয়।

২। পুরো রুটটি কভার করতে হলে শ্রীনগর থেকে শুরু করাই ভাল। শ্রীনগর থেকে লেহ আস্তে আস্তে উপড়ে উঠে, যার কারণে শরীর এডজাস্ট করার মত পর্যাপ্ত সময় পায়। মানালী থেকে লেহ হটাত করে অনেক উপড়ে উঠে। মানালী থেকে রোটাং-ই অল্প সময়ে ৫-৬হাজার ফুট উঁচুতে। এই রুটে তাই বেশি অসুস্থ হয় মানুষ।

৩। মানালী – লেহ এবং লেহ – শ্রীনগর এক দিনে ট্রাভেল না করাই ভাল। আমরা মানালি – লেহ রুটে জিসপাতে আর লেহ – শ্রীনগর রুটে কারগিলে নাইট স্টে করেছিলাম।

৪। লেহ তে পৌঁছে একদিন বিশ্রাম অবশ্যই নিবেন, সময় থাকলে ২ দিন। যারা দিল্লী থেকে ফ্লাই করে লেহ তে যাবেন, তাড়া ২ দিন রেস্ট নিবেন লেহতে। এতে AMS এটাক হবার চান্স কমে যায়।

Read More

post

হিমালয় কন্যার প্রেমে

স্বর্গ ঘুরে এলাম! আনন্দ বিপদ হাসি কান্না মিলিয়ে অসাধারন একটা ট্যুর!

কলকাতা – শিমলা – মানালি – ধর্মশালা – ডালহৌসি – অমৃতসর – কলকাতা।
ব্যাপ্তিঃ ১১দিন।
বাহনঃ ট্রেন এবং গাড়ি

শুরুতেই বলে নেই, আমি বাজেট ট্রাভেলার নই। বছরে একবারই বড় ছুটি কাটাই বিধায় একটু আরাম আয়েশে কাটাই। সুতরাং আমার খরচ একটু বেশি হয়েছে, আমি বলে দিব কিভাবে কম খরচে আপনারা ঘুরে আসতে পারেন।

আমরা ছিলাম মোট ৬.৫ জন, মানে ৬ জন আর সাথে ৩ বছরের একটা মেয়ে, ওকে নিয়েই আমরা বেশি টেনশনে ছিলাম বাট শি ওয়াজ স্ট্রং!!

এবার আমাদের ঘুরতে যাবার একটাই উদ্দেশ্য ছিল – শুধুমাত্র স্নো দেখা। যারা প্রকৃতি দেখতে যাবেন, তাদের এই সময়ে না যাওয়াই শ্রেয়।

কলকাতা থেকে আমাদের ট্রেন ছিল ৪ তারিখ বিকেল ৬.৪০ এ, হাওড়া স্টেশন থেকে কালকা। আমরা ৬ জন ৪ যায়গা থেকে রওয়ানা দিব। এর মধ্যে আমিই হাওড়া থেকে সব থেকে দূরে ছিলাম, জেমস লং সরনী। বিকেল ৫টায় আমি উবার ডেকে গাড়িতে উঠলাম, ড্রাইভার জাস্ট ট্রিপ অন করল – আর সাথে সাথে এক দাদার ফোন – বাপ্পী বের হয়ো না, ট্রেন ডিলে হয়েছে! গাড়িতে উঠেই নেমে গেলাম আর ৮০ টাকা বেইজ ফেয়ার দিতে হল! কিছুক্ষন পর জানা গেল যে ট্রেন পরদিন সকাল ৮.৪০এ। যেমন তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমেছিলাম, তেমনই আস্তে আস্তে উপরে উঠে আসলাম মন খারাপ করে। আমাদের সমস্ত গাড়ী আর হোটেল আগে থেকেই বুকিং দেয়া ছিল, তাই টেনশন বেড়ে গেল। Read More

post

মেঘালয় – দ্য গ্রীণ ভ্যালী

দ্য গ্রীন ক্যাপিটাল!

আগেই ঠিক করা ছিল যে এবার একটা লম্বা ট্রেন জার্নি করব। সেই মত বাঙ্গালোর থেকে গৌহাটির ট্রেন গৌহাটি এক্সপ্রেস এর টিকিট কাটলাম। ৫৪ ঘণ্টা শিডিউল টাইম! রাত সাড়ে এগারোটায় বাঙ্গালোর থেকে উঠলাম (যদিও ছাড়তে বেশ দেরী করেছিল), তিন রাত ট্রেনে কাটানোর পর সকাল সাড়ে পাঁচটায় গৌহাটি নামলাম। ৫১ ঘণ্টায়ই পৌঁছে যাই গৌহাটি। হলফ করে বলতে পারি, এই ট্রেন রাজধানি-দুরন্ত এর চেয়েও জোড়ে চলে। সমস্যা হয়েছিল একটু খাওয়া দাওয়া নিয়ে। যদিও অনেক ঘুরি বলে খাওয়া দাওয়া নিয়ে আমার তেমন সমস্যা হয় না, কিন্তু এবার একটু হয়েছিল। পরে স্টেশনে নেমে নেমে খাবার কিনে খেয়েছিলাম।

গৌহাটি নেমেই গাড়ীর খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম, গন্তব্য শিলং। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে বিধায় সবাই ৩ হাজার করে চাচ্ছিল। অনেক খোঁজার পর একজন ২২০০/- এ রাজি হল। গাড়ী নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম শিলঙের উদ্দেশ্যে। গৌহাটি থেকে শিলং হাইওয়ে এক অনিন্দ্য সুন্দর হাইওয়ে। অনেকটা পথই চার লেনের আঁকাবাঁকা রাস্তা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে। আর কিছুক্ষণ পর পর মেঘ এসে ভিজিয়ে দিয়ে যায়। ঠাণ্ডার সমস্যা না থাকলে অবশ্যই গাড়ীর জানালা খোলা রাখা উচিৎ। আমি একটু পর পর জানালা থেকে মাথা বের করে মেঘ খাচ্ছিলাম! মেঘে তো আর পেট ভরে না, তাই ঘন্টাখানেক পর গাড়ী থামিয়ে নাস্তা করে নিলাম। Read More